৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
khober-Alo-bg-image-png.2

ঢাকায় নতুন আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঢাকায় আরও চারটি নতুন থানা এবং কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেতে তিনশ’ ফুট এলাকায় ‘পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি–১’-এ নতুন খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এই পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন এই পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, রায়েরবাজারে নতুন থানার প্রস্তাব বর্তমানে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগের কিছু অংশ নিয়ে আরেকটি নতুন থানা করার চেষ্টা চলছে। ভাটারা, বাড্ডা ও খিলক্ষেত এলাকার অংশ নিয়ে ‘বসুন্ধরা’ নামে আরও একটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। খিলগাঁও এলাকায় নতুন থানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচল এলাকায় পুলিশিং শুরু হলে সেখানে চারটি থানা ও ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে পুলিশের দিকে খুব বেশি নজর দেওয়া হয়নি। সে সময় পুলিশ হয়তো বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। এখন পুলিশ জনগণের সেবার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান পুলিশের লক্ষ্য। পাশাপাশি ডিএমপির সদস্যদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় নতুন ব্যারাক, পুলিশ লাইন্স ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর ঘিরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসঙ্গে তিনশ’ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ঘিরে জনসংখ্যা ও যান চলাচল বাড়ায় খিলক্ষেত থানার আওতাধীন বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, তলনাসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এসব এলাকা থানা থেকে দূরে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, নতুন এ ফাঁড়ির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। তিনি আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন

archive-post-img2